ইসলামপুরে ফুটপাত ও রাস্তার ধারে বেআইনি দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ। নোটিস পেয়ে দোকান গুটাতে শুরু করেছেন অনেক ব্যবসায়ী। বুলডোজার অভিযানের জল্পনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে শহরজুড়ে।
সনজু খাঁন, মুর্শিদাবাদ: ইসলামপুর শহরে ফুটপাত ও রাস্তার ধারে বেআইনি দখল উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় নোটিস জারি হওয়ার পর থেকেই ব্যবসায়ী ও দখলদারদের মধ্যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শহরের বাস স্ট্যান্ড, নেতাজি মোড়, গোয়াস এলাকা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে থাকা দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিজস্ব চিত্র
স্থানীয় সূত্রে খবর, নোটিস পাওয়ার পর অনেক ব্যবসায়ী ও দোকানদার স্বেচ্ছায় নিজেদের দোকান ও সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জায়গা খালি না করলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। সেই কারণেই এলাকাজুড়ে “বুলডোজার অভিযান” নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি দখলের কারণে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে রাস্তার দুই ধারে দোকানপাট ও অস্থায়ী নির্মাণের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদেরও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরকে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
নিজস্ব চিত্র
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশের দাবি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে নোটিস দেওয়ায় তাঁদের ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের দাবিও তুলেছেন। অন্যদিকে শহরের বাসিন্দাদের একাংশ প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা অবৈধ দখলের ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং শহরের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইসলামপুরে এখন উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং শেষ পর্যন্ত বুলডোজার অভিযান চালানো হবে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক মহলের। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসনও।





