ডেস্ক রিপোর্ট
দারিদ্র্য ও পারিবারিক সমস্যার কারণে নিজের ১২ বছরের নাবালিকা কন্যাকে ১৬ হাজার টাকা এবং ১০টি শাড়ির বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিহারের আরওয়াল জেলার এক মহিলার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ জুড়ে।
(Image credit-Social media ) Source Times Of India
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ওই নাবালিকাকে উত্তরপ্রদেশের চন্দৌলির বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সি লাহারু যাদবের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত লাহারু দুই প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের বাবা। লেনদেনটিকে বৈধ বিয়ের রূপ দিতে মন্দিরে নাবালিকার সঙ্গে তার বিয়ের আচারও সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ।
এরপর চার মাস ধরে লাহারু ওই নাবালিকাকে নিজের কাছে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নিজেকে কমবয়সি দেখানোর জন্য লাহারু ১৭ লক্ষ টাকার জমি বিক্রি করে দিল্লিতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ করে হেয়ারস্টাইল পরিবর্তন করেছিল।
গত ১৯ মে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে লাহারু নাবালিকাকে বারাণসী ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সেখানেই ঝাড়খণ্ডের কুসমি এলাকার বাসিন্দা রবি বর্মা নামে এক অটোচালক সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে তাকে নিজের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানেও নাবালিকার ওপর ধর্ষণ চালানো হয় এবং তাকে আটকে রাখা হয়।
মঙ্গলবার সকালে প্রতিবেশীরা ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে সারনাথ থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাবালিকাকে উদ্ধার করে। পরে তার জবানবন্দিতে পুরো নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসে।
নাবালিকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তার মা, লাহারু যাদব এবং রবি বর্মার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তিন অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
পরে নাবালিকার মামা থানায় এসে জানান, মেয়েটিকে বিক্রি করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন তিনি এবং শিশুটির বাবা। কিন্তু সমস্ত আপত্তি উপেক্ষা করেই মা এই কাজ করেন বলে অভিযোগ।





